বেইজিংয়ের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান জাপানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করছে। এ পদক্ষেপের ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান কয়েক মাসের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনা আরো চরম আকার ধারণ করল বলে মনে করছেন অনেকে। খবর এফটি।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মিৎসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের পাঁচটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাসহ মোট ২০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান চীন থেকে কোনো ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ পণ্য (যা বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে লাগে) আমদানি করতে পারবে না। এছাড়া আরো ২০টি প্রতিষ্ঠানকে একটি ‘ওয়াচ লিস্ট’ বা নজরদারি তালিকায় রাখা হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সুবারু এবং মিৎসুবিশি ম্যাটেরিয়ালসের মতো বড় নাম। এ কোম্পানিগুলোকে চীন থেকে কোনো পণ্য নিতে হলে এখন থেকে অত্যন্ত কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
গত বছরের নভেম্বর থেকে টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তখন মন্তব্য করেছিলেন, স্বশাসিত তাইওয়ানে কোনো হামলা হলে টোকিও সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তার এ মন্তব্যের পর থেকেই জাপানের ওপর চীন বিভিন্ন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে আসছে। চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাপানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রুখতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ বৈধ ও যৌক্তিক।
চীনের এ ঘোষণার পর জাপানের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। টোকিও শেয়ার বাজারে কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর প্রায় ৫ শতাংশ এবং মিৎসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম ৪ শতাংশ কমেছে। এছাড়া আইএইচআই করপোরেশনের শেয়ারদর ৭ শতাংশের বেশি পড়ে গেছে। শুধু বাণিজ্য নয়, এ বিরোধের প্রভাব পড়েছে পর্যটন ও খাদ্য খাতেও। বেইজিং নিজ নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে সতর্কতা জারির পর সেখানে চীনা পর্যটকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এর আগে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানি ছাড়ার বিতর্ককে কেন্দ্র করে জাপানি সামুদ্রিক খাবার আমদানিতেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল চীন।
অন্যদিকে গত মাসে জাপান তাদের কাছে থাকা শেষ দুটি পান্ডা চীনে ফেরত পাঠিয়েছে। ফলে গত ৫০ বছরে এ প্রথম জাপানে কোনো পান্ডা নেই, যা দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান শীতল অবস্থার একটি প্রতীকী চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।